03/07/2025
ঘরে দামি জামদানি শাড়ি তাহলে জেনে নিন,
জামদানি শাড়ির যত্ন নেয়ার ১০ টি উপায়।
জামদানি শাড়ির যত্ন না নিলে খুব সহজেই এর সৌন্দর্য এবং আভিজাত্য হারিয়ে যেতে পারে। আসুন জেনে নিই, কীভাবে আপনি আপনার শখের জামদানি শাড়ির যত্ন নেবেন।
🔹 ১. শাড়িতে ফলস লাগানোঃ
জামদানি শাড়ি কেনার পরপরই আপনার প্রথম কাজ হবে পাড়ে ফলস লাগিয়ে ফেলা। এতে করে পাড় ভাঁজ হবে না এবং কুচিগুলোও সুন্দর থাকবে। এছাড়াও ফলস লাগানোর ফলে শাড়ির পাড়ের স্থায়িত্ব বাড়ে এবং এটি সহজে ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
🔹 ২. পানি থেকে দূরে রাখাঃ
অন্যান্য শাড়ির মতো জামদানি শাড়ি সাবান পাউডার আর পানি দিয়ে ধোয়া যায় না। বরং জামদানিকে সবসময় নতুনের মতো রাখতে হলে পানি থেকে দূরে রাখতে হবে। জামদানি তৈরির সময় যে মাড় ব্যবহার করা হয়, সেখানে পানি লাগলে সুতার বুনন আলগা হয়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। এতে করে জামদানি শাড়ি সহজেই নষ্ট হয়ে যায়।
🔹৩. কাঁটা ওয়াশঃ
যে কোনো দামি শাড়ির পরিচ্ছন্নতা বলতে অনেকের মাথায় ড্রাই ওয়াশের বিষয়টি আসে। কিন্তু জামদানি কোনোভাবেই ড্রাই ওয়াশ করা যাবে না। কারণ ড্রাই ওয়াশের পর জামদানি শাড়ি আয়রন করা হলে এতে শাড়ির বুনন নরম হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই জামদানি ধোয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে কাঁটা ওয়াশ। এমনকি পছন্দের শাড়িটি যদি নষ্ট হয়ে যায় বা ফ্যাকাশে হয়ে যায়, তাহলেও কাঁটা ওয়াশে দিতে পারেন। মনে রাখতে হবে, যারা জামদানি তৈরি করে শুধুমাত্র তাদের কাছেই কাঁটা ওয়াশের জন্য দিতে হবে। কেননা কাঁটা ওয়াশ একমাত্র যারা জামদানি তৈরি করে তারাই করতে পারেন।
🔹 ৪. রোদে দেওয়াঃ
অনেকদিন জামদানি শাড়ি আলমারির কোণে পড়ে থাকলে তাতে একটা আঁশটে গন্ধ তৈরি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে মাঝে মাঝে শাড়ি রোদে শুকিয়ে নেওয়া ভালো। শুধু রোদে দিলেই হবে না, শাড়িটিকে উল্টিয়ে দিতে হবে যেন দুই দিকেই সমান রোদ লাগে। কোনো কারণে বৃষ্টির পানি পড়লে ভালো করে রোদে শুকিয়ে নেওয়া উচিত। এতে শাড়ি সুরক্ষিত থাকবে।
🔹 ৫. শাড়ির সঠিক ভাঁজ
জামদানি শাড়ি তুলে রাখার সময় শাড়ির ভাঁজটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সাধারণ শাড়িগুলোতে চার ভাঁজ করে মাঝখানে একটা ভাঁজ দিয়ে আরেক ভাঁজ ভেঙে রেখে দেই। কিন্তু জামদানি কখনো এভাবে ভেঙে রাখা যাবে না। এমনকি শাড়ির মাঝখানে ভেঙে হ্যাংগারে ঝুলিয়ে রাখাও ঠিক না।
যেহেতু জামদানি হাতে খুব মিহি বুনন করা, তাই বুননের একটি সুতা এদিক সেদিক হলেই শখের শাড়িটি ফেঁসে যেতে পারে। জামদানির প্রথম দুই ভাঁজ দিতে হবে নরমাল শাড়ির মতোই। এরপর একটা পাতলা ভাঁজ দিয়ে তারপর মাঝখানে ভেঙে একটা ভাঁজ দিয়ে, হ্যাংগারে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
অথবা দুই পাশ থেকে ছোট ছোট ভাঁজ দিয়ে একটা আরেকটার ভেতরে দিয়ে দিতে হবে। জামদানি শাড়িকে কখনো অন্য শাড়ির নিচে রাখা যাবে না। আলমারিতে তুলে রাখার সময় সাদা কাগজের প্যাকেটে রেখে দিলে শাড়িতে যেমন ফাঙ্গাস পড়ে না, তেমনি সুরক্ষিতও থাকে। মাঝে মাঝে এই ভাঁজ পরিবর্তন করে রাখতে হবে। কারণ বেশি দিন এক ভাঁজে থাকলে শাড়িতে দাগ পড়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
🔹 ৬. বেশি দিন ফেলে রাখবেন নাঃ
সাধারণত উৎসব অনুষ্ঠান ছাড়া জামদানি শাড়ি পরা হয় না। বাস্তবতা হচ্ছে, জামদানি যত বেশি পড়া হবে তত বেশি ভালো থাকবে। তাই মাঝে মাঝে জামদানি পরা উত্তম।
🔹 ৭. নতুন করে রঙ করানোঃ
অনেক সময় দেখা যায়, জামদানি বেশি ব্যবহারের কারণে রঙ জ্বলে যায়। জামদানির রঙ নষ্ট হওয়া কিংবা দাগ লাগলে জামদানিতে নতুন ডিপ কালারের রঙ করে নেওয়া যায়। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে একরঙা শাড়িগুলোতেই রঙ করা যায়। মাল্টিকালারের জামদানিতে রঙ করার উপায় নেই।
🔹 ৮. সিলিকা এবং নিমপাতা ব্যবহারঃ
জামদানি শাড়ি সুরক্ষিত রাখতে আলমারিতে শুকনো নিমপাতা এবং সিলিকা প্যাকেট রাখতে পারেন। এটি আলমারির আর্দ্রতা শোষণ করে এবং পোশাককে শুষ্ক রাখে। নিমপাতা পোশাককে বিভিন্ন পোকামাকড় থেকে রক্ষা করে।
🔹 ৯. সরাসরি জুতার স্পর্শ থেকে দূরে রাখাঃ
জামদানি শাড়ি পরার সময় সরাসরি জুতার স্পর্শ থেকে দূরে রাখুন। এতে শাড়ির পাড় বা অন্যান্য অংশ ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
🔹 ১০. ট্যালকম পাউডার ব্যবহারঃ
জামদানি শাড়িতে কোনো রকম লিকুইড কিছু পড়ে দাগ লাগলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ট্যালকম পাউডার ছড়িয়ে দিন এবং রোদে শুকিয়ে নিন। এটি দাগ অপসারণে সাহায্য করবে।
উপরের নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার জামদানি শাড়ি দীর্ঘদিন নতুনের মতো থাকবে এবং এর আভিজাত্য বজায় থাকবে।