11/08/2026
মেহরিন সেদিন প্রথমবার বুঝেছিল—একটা সন্তান শুধু সংসারে একজন মানুষ বাড়ায় না, অনেক সময় পুরো সংসারের হিসাবটাই বদলে দেয়।
এর আগে মেহরিন আর তার স্বামীর ছোট্ট সংসারটা কোনোভাবে চলে যাচ্ছিল।
স্বামীর কাজের পদবি অনেক বড়।
শুনলে হয়তো মনে হবে, সংসারে অভাব থাকার কথা না।
কিন্তু বেতনটা?
এতটাই নগণ্য যে দু’জন কোনোভাবে খেয়ে-পরে, হিসাব করে, একটু কমে একটু বেশি দিয়ে মোটামুটি জীবনটা পার করে দিত।
বিলাসিতা তো দূরের কথা—
স্বাভাবিক জীবনটাই ছিল তাদের কাছে বড় হিসাব।
তারপর একদিন শুরু হলো ২ থেকে ৩ হওয়ার যাত্রা।
সেখান থেকেই যেন সবকিছু বদলে গেল।
কারণ একজন মানুষ তখন আর শুধু একজন থাকে না।
যত্ন দ্বিগুণ।
দায়িত্ব দ্বিগুণ।
প্রয়োজন দ্বিগুণ।
কিন্তু আয়?
সেটা তো একই।
যে দেশে দু’জন মানুষের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে তৃতীয় একজনের প্রয়োজনগুলো মেহরিনের কাছে মনে হতে লাগল—পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে যাওয়ার মতো।
তারপর এলো ডেলিভারির সময়।
সারা বছর কোনোভাবে survive করা গেলেও, ওই সময় যেন পুরো পাহাড়টাই মাথার ওপর এসে পড়ল।
কারণ চিকিৎসা নেওয়াটাও এখানে অনেক সময় বিলাসিতার পর্যায়ে চলে যায়।
বাঁচবেন নাকি মরবেন—
তার আগেই প্রশ্ন আসে,
“চিকিৎসার টাকা কোথা থেকে আসবে?”
মেহরিনও সেই ভয় পেয়েছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত এক রাতে, কৃত্রিম আলোর মাঝে, তার কোল আলো করে এলো ছোট্ট একটা ফুল। ❤️
সেই মুহূর্তে কয়েক ঘণ্টার জন্য মেহরিন সবকিছু ভুলে গেল।
চিকিৎসার খরচ।
ভয়।
দুশ্চিন্তা।
সংসারের হিসাব।
শুধু মনে হলো—
“যাক… এত কিছুর পরেও তো আমাদের পৃথিবীটা পূর্ণ হলো।”
কিন্তু হাসপাতাল থেকে ফেরার পরের সকালেই মেহরিনের সামনে এমন একটা বাস্তবতা দাঁড়াল, যেটা সে আগে কখনো ভাবেনি।
সিজারের কষ্ট একদিকে।
অন্যদিকে শীতের তীব্রতা।
ছোট্ট শিশুটাকে একটু আরামে রাখার চিন্তা।
ডায়াপার পরিয়ে একটু নিশ্চিন্ত থাকার ইচ্ছেটাও তখন বিলাসিতা মনে হতে লাগল—
যেখানে মেয়েদের নিজেদের প্রয়োজনীয় স্যানিটারি প্যাডও অনেক সময় বাড়তি খরচ।
একটার পর একটা “extra” খরচ যোগ হতে থাকল।
অথচ এগুলোর কোনোটাই বিলাসিতা নয়।
তবুও মেহরিনের হিসাবের খাতায় সবগুলোই “বাড়তি খরচ”।
আর ঠিক সেখানেই প্রথমবার সে বসে হিসাব করল—
দু’জনের সংসার চালাতে যে টাকা লাগত,
তিনজনের সংসারে সেটা কত দাঁড়িয়েছে?
হিসাবটা দেখে মেহরিন কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল।
তারপর স্বামীকে শুধু একটা কথা বলল—
“এভাবে আর কতদিন?”
কিন্তু সে তখনও জানত না,
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তাকে এমন একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে,
যেটা তার জীবনের পরের অধ্যায়টাই বদলে দেবে।
চলবে…
👉 Part 2 চাইলে “NEXT” লিখে দিও।