27/08/2025
শিক্ষামূলক গল্প: চাতক পাখি ও বাদশাহ হারুনুর রশিদ
একদিন বাদশাহ হারুনুর রশীদের দরবারে এক লোক এলেন। তার হাতে একটি চাতক পাখি। লোকটি বাদশাহকে বলল
“হুজুর! আমি এই পাখিটি বিক্রি করতে চাই।”
বাদশাহ পাখিটিকে দেখে অবাক হলেন। কারণ পাখিটির একটি পা নেই। তিনি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন
“এত সাধারণ, তাও আবার পা-হীন একটি পাখির দাম এত বেশি কেন চাইছো?”
শিকারি বিনয়ের সাথে বলল
“মার্জনা করবেন জাহাপানা, এই পাখিটি দেখতে সাধারণ হলেও আসলে এটি বিশেষ কাজের। আমি যখন শিকারে যাই, তখন এটিকে আমার সাথে নিয়ে যাই। শিকার ফাঁদ পাতলে আমি এই পাখিটিকেও বেঁধে রাখি। তখন এই চাতক পাখিটি এক অদ্ভুত আওয়াজ করে, যার টানে ঝাঁকে ঝাঁকে অন্যান্য পাখি উড়ে আসে। এরপর আমি সহজেই সব পাখিকে ধরে ফেলি। বলা যায়, এটি আমার শিকারের প্রধান সহযোগী।”
বাদশাহ কিছুক্ষণ চিন্তা করলেন, তারপর সেই শিকারির দাবিকৃত উচ্চমূল্যে পাখিটিকে কিনে নিলেন। কিন্তু হঠাৎ সবাইকে অবাক করে দিয়ে সাথে সাথেই পাখিটিকে জবাই করে ফেললেন।
অবাক হয়ে শিকারি বলল
“জাহাপানা! আপনি এত দামে কিনলেন, অথচ এখনই মেরে ফেললেন কেন?”
বাদশাহ গম্ভীর স্বরে উত্তর দিলেন
“যে নিজের জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাকে টোপ বানিয়ে অন্যদের ধ্বংসে সাহায্য করে সে যেমনই হোক না কেন, তার পরিণতি এই পাখির মতোই হওয়া উচিত।”
শিক্ষণীয় দিক ✨
১. স্বার্থের জন্য জাতি বা সমাজের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে শেষ পর্যন্ত নিজেরও সর্বনাশ হয়।
২. দালালি ও গাদ্দারি কখনোই মহৎ চরিত্রের লক্ষণ নয়।
৩. নেতৃত্ব মানে নিজের স্বজাতিকে রক্ষা করা, ধ্বংস করা নয়।
৪. বাদশাহ হারুনুর রশিদের এই সিদ্ধান্ত ইতিহাসে ন্যায় ও দূরদর্শিতার অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে।