12/05/2025
এএসপি পলাশ সাহার মৃত্যুর পর একদল পুরুষ যেই হারে মেয়েটাকে দোষারোপ করে পোস্ট দিলো!!
পলাশ সাহার মায়ের বিচ্ছিরি নমুনার কথা শুনে সত্যটা মানতে আর হজম করতে তো সেই পুরুষ মানুষদের কলিজায় গিয়ে লাগবে!! কারণ বউয়ের বেলায় আসলে তাদের আবার সত্য হজম হয় না তো তাই..
আদৌ এত কিছুর পরও স্বামী আর শ্বাশুরি সমাজের টনক নড়বে কিনা কে জানে? আমাদের সমাজের ট্রেন্ড হয়ে গেছে ঘরে ঘরে বউদের উঠতে বসতে যাতাকলে রেখে পিষানো!! আর যত জায়গায় যত ডিভোর্স হচ্ছে আর স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে তার ৯০% কারণ হচ্ছে শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ আর লোকজনেরা।
মুসলিম সমাজে একজন বউ যে হচ্ছে "রব্বাতুল বাইত" অর্থাৎ "ঘরের রাণী", তার সাথেই সবচেয়ে বেশি দুর্ব্যবহার আর বৈষম্য করা হয়। ভাবটা এমন যেন তিনবেলা খাওয়ানোর বিনিময়ে ঘরের বউদের সুখ কিনে নিয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ইসলামে খালি ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরে মুসুল্লি হইতে বলে না। নামাজ তো অবশ্যই লাগবেই কিন্তু মানুষের হক নষ্ট করলে যে মাফ নাই তার আর হুশ নাই। ইসলামে স্ত্রীকে কতটা সম্মান, মর্যাদা দিয়েছে আর স্বামীর অধিকার এর প্রথম হক যে স্ত্রীকে দিয়েছে এটা পুরুষরা মানে না তাই জানতেও চায় না।
অশান্তি কি খালি বউয়ের জন্য হয় সংসারে??
একটা মেয়ের নতুন একটা পরিবেশে খাপ খাওয়ানো এতোই সহজ?
আপনারা পুরুষ মানুষ, শ্বশুর বাড়ি গিয়ে এতো আপ্যায়নের মধ্যে এক রাত কাটাতে কষ্ট হয়ে যায়, আর আপনাদের বউরে তো আনার পর আপনার অগোচরে পরিবার আয়রন মেশিন দিয়ে মোটামুটি আয়রন করে ফেলে।
তার খবর জানেন??
তা জানতে গেলে তো আবার ঘরের মানুষের দিকে আঙ্গুল তুলতে হবে। সেটা পারবে না বলেই পুরুষেরা সব দেখেও না দেখার ভান করে, জেনেও না জানার ভান করে। আঙ্গুল তো তুলা যায় শুধু ঘরের বউদের দিকে কারণ তারা পরের মেয়ে।
পুরুষ মানুষ এটা বুঝে না যে আপনার সাথে তো আপনার মায়ের রক্তের সম্পর্ক,সে আপনাকে ভালোবাসবেই।
বউ তো অন্য বাড়ির মেয়ে, সে আপনাকে কোনো রক্তের সম্পর্ক ছাড়াই ভালোবাসে,আপনার পরিবারের সাথে মানিয়ে চলার চেষ্টা করে।
কিন্তু আমাদের সমাজের পারিবারিক শিক্ষা হলো, "বউ মরলে বউ পাওয়া যায়, মা মরলে মা পাওয়া যায় না"
গর্দভ পুরুষ জাতের মাথায় এটা কাজ করে না যে তার বউও তার সন্তানের মা!!
আপনারা একটা মৃত্যু কে কেন্দ্র করে, একটা নারীকে অসম্মান করতে গিয়ে পুরো নারী সমাজকে অসম্মান করেছেন।