15/07/2025
রুনা খান এক টিভি শোতে স্লিভলেস ব্লাউজ পরে এসেছিলেন। সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, তাঁর দুই হাতে বেশ ট্যান হয়ে গেছে—হাতের রঙের সাথে মুখের কোনো মিলই নেই। যদিও মুখে মেকআপ ছিল। কমেন্টবক্সে এই বিষয়টি ঘিরে অনেক আলোচনা হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সেই টিভি শোয়ের কিছুদিন আগেই রুনা খান আউটডোর শুটিং শেষ করে ফিরেছেন।
শুটিং নিয়ে সাধারণ মানুষের খুব একটা ধারণা নেই—আমারও ছিল না।ডাবর আমলা হেয়ার অয়েলের বিজ্ঞাপন করতে গিয়ে কিছুটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। ক্যামেরার সামনে তীব্র আলো।ফ্যান, এসি থাকা সত্ত্বেও ঘাম টপটপ করে পড়ছিল। একটি এক মিনিটের শট নিতে আমার ৪-৫ ঘণ্টা লেগেছে। সেখানে আউটডোরে তীব্র রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করলে ট্যান হওয়াটা তো স্বাভাবিক।
বাঁধনের এই ছবি নিয়ে অনেকের একটা কমন প্রশ্ন হচ্ছে—“বাঁধনের মতো একজন তারকার স্কিনে এত সমস্যা কীভাবে হয়?” যেখানে তাঁর কাছে নামীদামি স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট, আধুনিক চিকিৎসা, এবং নানা রকম সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
বাঁধনের স্কিনে যদি এতো সমস্যা থাকে এতো ভালো প্রোডাক্ট ইউজ করার পরেও, এতো সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পরেও,তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের স্কিনের পিছনে টাকা খরচ করার তো কোন মানেই হয় না।
প্রশ্নটা যৌক্তিক। তাই উত্তরটাও দিচ্ছি যৌক্তিকভাবে।
বাঁধনেরা অনেক বেশি পরিমাণে ত্বকের উপর চাপ নেন—আলোর তাপে, মেকআপের ভারে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আউটডোর শুটিংয়ে রোদে পুড়ে সময় কাটান—তাতে যত দামি প্রোডাক্টই ব্যবহার করা হোক না কেন, স্কিনে সমস্যা হবেই।
মিডিয়ার কর্মীরা কখনোই বাধনের মতো "বেয়ার স্কিন" নিয়ে জনসমক্ষে আসেন না। বাঁধন যখন মেকআপ করে আসেন, তখন কিন্তু তাঁকে ঠিকই ফ্লোলেস আর চকচকে দেখা যায়।
বাঁধনের স্কিন প্রবলেমের গুলো কিছুদিন পরই হিল হয়ে যাবে কিন্তু স্কিনকেয়ার আর আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি অবলম্বন করেই কিন্তু।
আজকে হয়তো ট্যান দেখা যাচ্ছে, কালকে দেখবেন সেই স্কিনই ফ্রেশ আর গ্লোয়িং। কারণ তাঁরা স্কিনকে সময় দেয়,যত্ন নেয়,স্কিন হিল করার জন্য কাজ করে।
আমাদের জীবনে মেকআপ বা ক্যামেরা নেই কিন্তু রোদ, ধুলাবালি, স্ট্রেস, ঘুমের অভাব, হরমোনাল ইমব্যালান্স—আমার জীবনে আছে।আমরা সাধারণ মানুষ। আমাদের কাজ করে খেতে হয়—রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে অফিস করতে হয়, রান্না করতে হয়, বাচ্চাকাচ্চার ঘ্যানঘ্যান শুনতে হয়, শ্বশুর-শাশুড়ির প্যানপ্যান সামলাতে হয়। আমাদের স্কিনে পিগমেন্টেশন হবে, ব্রণ হবে, ব্রণের দাগ থাকবে। চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল পড়বে, চেহারা মলিন দেখাবে—এটাই স্বাভাবিক।
স্কিনকেয়ার নিয়ে আমাদের সবচেয়ে ভুল ধারনাটাই হলো,স্কিনকেয়ার মানেই স্কিনকে নিখুঁত করা।
আমাদের বুঝতে হবে স্কিনকেয়ার মানে ত্বককে একদম নিখুঁত করে তোলা না—বরং স্কিনকেয়ার মানে যত্ন নিয়ে স্কিনকে সুস্থ রাখা, কষ্ট কমানো, সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা।নিজেকে প্যাম্পার করা।
যদি একেবারেই কিছু না করা হয়, তাহলে সমস্যা আরও বাড়বে—ব্রণ বেশী হবে, দাগ দীর্ঘস্থায়ী হবে।পিগমেনটেশন বাড়তে বাড়তে সেটা মেসতায় পরিনত হবে, চেহারায় বয়সের ছাপ তাড়াতাড়ি পড়বে।চোখের নীচে পার্মানেন্ট ডার্ক সার্কেল পরবে......
নিয়মিত যত্ন নিলে অন্তত এই সমস্যাগুলো কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে থাকবে, স্কিনের নিজস্ব রেজিলিয়েন্স বাড়বে।
যতটুকু সম্ভব, যতটুকু সাধ্য, সেই অনুযায়ী নিয়মিত যত্ন নেওয়া উচিত। এটা শুধুই সৌন্দর্যের জন্য না,শুধুই নিখুঁত হওয়ার জন্য না।এটা শুধুই নিজের জন্য নিজেকে ভালোবাসার জন্য।
© Nadia Siddiqua