11/12/2025
ইসলামি শরিয়তে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই পর্দার সুনির্দিষ্ট সীমারেখা বা নিয়ম রয়েছে। মূলত পর্দা বা হিজাবের নিয়মকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ১. সতর (শরীরের যতটুকু অংশ ঢাকা আবশ্যিক) এবং ২. দৃষ্টি ও আচরণের সংযম।
নিচে নারী ও পুরুষের পর্দার নিয়মগুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. পুরুষের পর্দা:
অনেকের ধারণা পর্দা শুধু নারীদের জন্য, কিন্তু কুরআনে প্রথমে পুরুষদের দৃষ্টি সংযত করতে বলা হয়েছে।
সতর (শরীরের যে অংশ ঢাকতেই হবে): পুরুষের সতর হলো নাভি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত। এই অংশটুকু অন্য পুরুষের সামনেও ঢেকে রাখা ফরজ। নামাজ বা জনসমক্ষে এটি খোলা রাখা যাবে না।
দৃষ্টি সংযত রাখা (গাযযুল বাসার):
গায়ের মাহরাম (যাদের বিয়ে করা বৈধ) নারীদের দিকে কামভাব নিয়ে তাকানো নিষেধ। প্রয়োজনে তাকালে (যেমন ব্যবসার ক্ষেত্রে বা রাস্তায় চলার সময়) দৃষ্টি নিচু রাখতে হবে।
পোশাকের ধরণ: পুরুষদের জন্য এমন পোশাক পরা নিষিদ্ধ যা রেশমি (সিল্ক), খুব বেশি আঁটসাঁট, শরীর দেখা যায় এমন পাতলা, কিংবা যা নারীদের পোশাকের মতো দেখতে।
২. নারীর পর্দা:
নারীর পর্দার বিধান পরিবেশ ও ব্যক্তির ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন হয়।
মাহরাম ও গায়ের মাহরাম:
মাহরাম: যাদের সাথে বিয়ে আজীবনের জন্য হারাম (যেমন—বাবা, ভাই, ছেলে, আপন চাচা/মামু, শ্বশুর)। এদের সামনে চুল, গলা, বা হাতের বাহু প্রকাশ করা জায়েজ (যদি ফিতনার ভয় না থাকে)।
গায়ের মাহরাম (পরপুরুষ):
যাদের সাথে বিয়ে বৈধ (যেমন—কাজিন, দুলাভাই, দেবর, এবং পরিবারের বাইরের যেকোনো পুরুষ)। এদের সামনে পূর্ণ পর্দা ফরজ।
পোশাকের সীমারেখা (পরপুরুষের সামনে):
পুরো শরীর ঢেকে রাখতে হবে।
চেহারা ও হাতের কবজি: জমহুর আলেমদের (অধিকাংশ স্কলার) মতে, যদি ফিতনার (আকর্ষণের) ভয় না থাকে তবে চেহারা ও হাতের কবজি পর্যন্ত খোলা রাখা যায়। তবে বর্তমান যুগে ফিতনার আশঙ্কায় অনেকেই চেহারা ঢাকার (নিকাব) পক্ষে মত দেন।
পোশাকটি অবশ্যই ঢিলেঢালা হতে হবে, যাতে শরীরের গঠন বোঝা না যায়।
পোশাকটি এত পাতলা হওয়া যাবে না যাতে ভেতরের চামড়া বা চুল দেখা যায়।
আচরণ ও কণ্ঠস্বর:
পরপুরুষের সাথে কথা বলার সময় কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখতে হবে; এমনভাবে কোমল বা নমনীয় করা যাবে না যা পরপুরুষকে আকৃষ্ট করে।
চলার সময় সজোরে পা ফেলা যাবে না যাতে অলংকারের শব্দে মনোযোগ আকর্ষিত হয়।
৩. সঠিক পর্দার সাধারণ শর্ত (উভয়ের জন্য)
পোশাক পরার পরেও যদি নিচের শর্তগুলো পূরণ না হয়, তবে শরিয়ত অনুযায়ী তা পরিপূর্ণ পর্দা বলে গণ্য হবে না:
১. স্বচ্ছতা: পোশাক এত পাতলা হবে না যে শরীর দেখা যায়।
২. আঁটসাঁট: পোশাক শরীরের সাথে লেপটে থাকবে না।
৩. আকর্ষণ: পোশাকটি নিজেই যেন সাজসজ্জা বা পরকীয়া আকর্ষণের কারণ না হয়ে দাঁড়ায় (তাবাররুজ)।
৪. বিজাতীয় অনুকরণ: অন্য ধর্মের বা অশালীন সংস্কৃতির অনুকরণে পোশাক পরা যাবে না।
সহজ কথায়: পর্দা মানে কেবল বোরকা বা টুপি পরা নয়; এটি হলো—লজ্জাস্থান ও সৌন্দর্য ঢেকে রাখা, দৃষ্টি সংযত রাখা এবং আল্লাহভীতি অন্তরে ধারণ করা।