18/08/2026
তোমার এই ইতিহাস সবাই মনে রাখবে না।
আমরা যারা ঐ জুলাই যুদ্ধে মাঠে ছিলাম
একজন সহযোগী হিসেবে আমৃত্যু মনে রাখবো
আল্লাহ্ তায়ালা জান্নাত বাসী করুন, তোমার আদর্শে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে উঠবে দেশের প্রত্যেকটি তরুণ, ওখানেই তোমার স্বার্থকতা।
শহীদ পরিবারের সকলের প্রতি রইলো আন্তরিক সমবেদনা।
“চলেন ভাই, শহীদ হয়ে আসি। এমন সময় জীবনে আর পাওয়া যাবে না।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন শহীদ ফরহাদ হোসেন। অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের এই তরুণের স্বপ্ন ছিল—একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবেন। জ্ঞান ও আলো ছড়িয়ে দেবেন অসংখ্য শিক্ষার্থীর মাঝে।
কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।
শিক্ষার্থীদের অধিকার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রশ্নে ঘরে বসে থাকেননি ফরহাদ। যোগ দিয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ‘এক দফা’ দাবিতে যখন সারাদেশ উত্তাল, ঢাকায় যেতে না পেরে তিনি মাগুরাতেই আন্দোলনে অংশ নেন।
সেদিন সকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে বড় ভাইকে বলেছিলেন—
“চলেন ভাই, শহীদ হয়ে আসি। এমন সময় জীবনে আর পাওয়া যাবে না।”
কথাগুলো যে তার জীবনের শেষ কথাগুলোর একটি হয়ে থাকবে, তা কি কেউ জানত?
দুপুরে কলেজের পাঁচ-সাতজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ইজিবাইকে করে আন্দোলনে যান ফরহাদ। ঢাকা-মাগুরা মহাসড়কের পারনান্দুয়ালী ব্রিজ এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু হলে একটি গুলি এসে লাগে তার মাথায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে বসে পড়েন তিনি। আশপাশের মানুষ মাথায় পানি ঢেলে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।
কিন্তু তখনও তার মনে ছিল পরিবার।
মৃত্যুর আগে তার শেষ অনুরোধ ছিল—
“আমার পকেটে থাকা ফোনটা আর আমার লাশটা আম্মুর কাছে পৌঁছে দেবেন।”
এরপর নিজেই কালেমা পড়তে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কালেমা পড়তে পড়তেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ।