06/05/2026
স্মার্টফোন আর স্মার্টওয়াচের এই যুগে সময় দেখাটা চোখের পলকের ব্যাপার হলেও, যান্ত্রিক ঘড়ি আবিষ্কারের আগে মানুষ সময় মাপতে ব্যবহার করত চমৎকার সব বুদ্ধিদীপ্ত উপায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রাচীনকালের 'মোমবাতি ঘড়ি'। পদ্ধতিটি ছিল খুব সহজ কিন্তু ভীষণ কার্যকরী। একটি নির্দিষ্ট মাপের ও ওজনের মোমবাতির গায়ে সমান দূরত্বে দাগ কাটা থাকত। মোমবাতিটি জ্বালালে তা একটি নির্দিষ্ট সময়ে কতটুকু পুড়বে, তা আগে থেকেই হিসেব করা থাকত বলে মোম জ্বলতে জ্বলতে এক দাগ থেকে আরেক দাগে নেমে আসলেই বোঝা যেত ঠিক কতটা সময় পার হয়েছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এই মোমবাতি ঘড়িকে তখনকার দিনের 'অ্যালার্ম ক্লক' হিসেবেও ব্যবহার করা হতো! মোমবাতির নির্দিষ্ট দাগে ছোট ছোট লোহার পেরেক গুঁজে রাখা হতো এবং ঠিক নিচে রাখা হতো একটি ধাতব পাত্র। মোম গলতে গলতে নির্দিষ্ট দাগে পৌঁছালেই পেরেকটি ধাতব পাত্রের ওপর সশব্দে খসে পড়ত, আর সেই শব্দেই অ্যালার্মের মতো সতর্ক হয়ে যেতেন মানুষ। প্রাচীন চীন, জাপান থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের বিজ্ঞানী এবং ইউরোপের রাজারাও দৈনন্দিন কাজ ও প্রার্থনার সময় ঠিক রাখতে এই ঘড়ির ওপর নির্ভর করতেন। প্রযুক্তির অভাব থাকলেও প্রাচীন যুগের মানুষের এমন উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা সত্যিই অবাক করার মতো! আপনাদের কাছে মোমবাতি ঘড়ির এই চমৎকার ধারণাটি কেমন লাগল?
#ইতিহাস #অজানা_তথ্য #মোমবাতিঘড়ি #প্রাচীনপ্রযুক্তি