20/08/2026
Google-এ কয়েকটি সার্চ রেজাল্ট দেখে একজন ব্যবসায়ীকে প্রতারক বানিয়ে দেওয়া যায় না। অথচ একটি গহনার মূল্য নিয়ে যথাযথ হিসাব ও যাচাই-বাছাই না করেই আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত দাম নেওয়া ও প্রতারণার মতো গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে।
বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য পুরো লেনদেনের বিস্তারিত হিসাব ও বাস্তব তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো।
ঘটনাটি যেভাবে ঘটেছে
১৯/০৮/২০২৬ তারিখ রাতে একজন ক্রেতা আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ২২ ক্যারেটের ১ জোড়া পাশা ক্রয় করেন। পাশাটির মোট ওজন ছিল ৪ আনা ৪ রত্তি ৩ পয়েন্ট (৩.৪৪ গ্রাম)।
তিনি তার সঙ্গে থাকা একটি ২২ ক্যারেটের লকেট এক্সচেঞ্জ করে দুল নিতে চেয়েছিলেন। এ সময় আমাদের প্রতিষ্ঠানের ২২ ক্যারেটের একটি দুলের নিচের অংশ (ঝুমকা) অন্য একটি ২২ ক্যারেটের পাশার সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়।
দুলের ওজন ছিল ২ আনা ৩ রত্তি (১.৮২ গ্রাম) এবং পাশার ওজন ছিল ৩ আনা ২ রত্তি ২ পয়েন্ট (২.৭০ গ্রাম)। ঝুমকাটি পাশার সঙ্গে সংযুক্ত করার পর মোট ওজন দাঁড়ায় ৪ আনা ৪ রত্তি ৩ পয়েন্ট (৩.৪৪ গ্রাম)।
এখানে উল্লেখ্য, দুলের যে অবশিষ্ট অংশটি আমাদের কাছে থেকে যায়, সেটি সাধারণভাবে অন্য কোনো ক্রেতার কাছে বিক্রি করা সম্ভব নয়; সেটি পাকা করে (গলিয়ে/প্রক্রিয়াজাত করে) নিতে হয়। ফলে এটিও লেনদেনের একটি বাস্তব বিবেচ্য বিষয়।
পাশার মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল
সেদিন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নির্ধারিত দর ছিল প্রতি ভরি ২,৩৬,৭৭৯ টাকা।
৪ আনা ৪ রত্তি ৩ পয়েন্ট (৩.৪৪ গ্রাম) স্বর্ণের মূল্য:
স্বর্ণের মূল্য = ৬৯,৮০০ টাকা
মজুরি = ৫,৮৯৫ টাকা
সর্বমোট = ৭৫,৬৯৫ টাকা
অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নির্ধারিত দর ও প্রযোজ্য মজুরি বাজুস (বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি) এর নিয়মানুযায়ী হিসাব করেই গহনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবার আসি এক্সচেঞ্জ করা লকেটের হিসাবে
দরদাম ও অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত করার পর, লেনদেনের শেষ পর্যায়ে আমরা লকেটটি পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিই। পরীক্ষায় দেখা যায়, লকেটটি ২২ ক্যারেট নয়; এর বিশুদ্ধতা ছিল ১৯.৮০ ক্যারেট যা ক্যাশ মেমোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দর থেকে প্রযোজ্য মূসক বাদ দিয়ে এবং প্রচলিত এক্সচেঞ্জ হিসাব অনুযায়ী ১০% কর্তন করে লকেটটির এক্সচেঞ্জ ভ্যালু নির্ধারণ করা হয়।
হিসাবটি ছিল:
২২ ক্যারেট স্বর্ণের দর: ২,৩৬,৭৭৯ টাকা
মূসক ব্যতীত ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দর: ২,৩৪,২৭৯ টাকা
১০% বাদে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দর: ২,১০,৮৫১ টাকা
এরপর ১৯.৮০ ক্যারেট স্বর্ণের দর:
(২,১০,৮৫১ × ১৯.৮০) ÷ ২২ = ১,৮৯,৭৬৫ টাকা (প্রায়)
লকেটটির ওজন ছিল ১ আনা ৬ পয়েন্ট।
অতএব, লকেটটির নির্ধারিত এক্সচেঞ্জ ভ্যালু ছিল ১৩,০৪৬ টাকা।
বাকি টাকা ক্রেতা নগদ অর্থের মাধ্যমে পরিশোধ করেন।
তাহলে অভিযোগটি কোথায়?
একটি গহনার মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু Google-এ দেখা একটি স্বর্ণের দর দিয়ে হিসাব করা যায় না। ক্যারেট, ওজন, মজুরি, গহনার ধরন, এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা এবং প্রযোজ্য কর্তন—সবকিছু হিসাবের অংশ।
অথচ পুরো বিষয়টি যাচাই না করে এবং আমাদের কাছ থেকে হিসাব না নিয়ে একটি গ্রুপে একতরফাভাবে ঘটনাটি উপস্থাপন করে আমাদের প্রতিষ্ঠানকে প্রতারক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
আমরা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে করা এমন অভিযোগ মেনে নেব না।
ক্রেতার গোপনীয়তার স্বার্থে এখানে তার পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে প্রয়োজনে লেনদেনের সংশ্লিষ্ট হিসাব ও প্রমাণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
অতএব, অনুরোধ থাকবে—প্রথমে সম্পূর্ণ হিসাব ও বাস্তবতা যাচাই করুন, তারপর অভিযোগ করুন।
অন্যথায়, আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে প্রকাশ্যে করা এই অভিযোগের বিষয়ে আমরা প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করছি।