14/01/2026
হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে যে ঘড়িটি দেখছেন—এর দাম কত জানেন? প্রায় ২০ কোটি টাকা।
শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, Richard Mille ব্র্যান্ডের এই ঘড়িটি বর্তমানে ঘড়ির জগতের অন্যতম সেরা ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইতিহাসের নিদর্শন। তবে এই আকাশচুম্বী দামের রহস্য কেবল হীরা বা জহরত নয়, বরং এর পেছনের রোমাঞ্চকর গল্প এবং বৈপ্লবিক প্রযুক্তি। সাধারণ মুভমেন্ট যেখানে স্ক্রু-পিনে স্থির থাকে, এখানে পুরো মেকানিজমটি ঝুলে আছে টেনিস র্যাকেটের স্ট্রিং-এর মতো অতিসূক্ষ্ম স্টিল কেবলের জালে।
ফলাফল? ভয়ংকর শক-রেজিস্ট্যান্স। টেনিস কোর্টে Rafael Nadal যখন তীব্র গতিতে সার্ভ করেন কিংবা ক্রিকেট মাঠে হার্দিক পান্ডিয়া যখন জোরালো শট খেলেন, তখন কবজিতে যে প্রচণ্ড ঝাকুনির সৃষ্টি হয়, এই স্ট্রিংগুলো সেই আঘাত শুষে নেয়। ফলে ঘড়ির ভেতরের সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশ থাকে একদম সুরক্ষিত।
অসম্ভবকে সম্ভব করার ইতিহাস এই প্রযুক্তির জন্ম হয়েছিল Rafael Nadal-এর একটি বিশেষ প্রয়োজনের কারণে। ২০০৮ সালে যখন তাকে খেলার সময় ঘড়ি পরার প্রস্তাব দেওয়া হয়, তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তার মতে, সাধারণ ঘড়ি টেনিসের গতি সহ্য করতে পারবে না এবং ওজনে ভারী হওয়ার কারণে খেলায় ব্যাঘাত ঘটবে।
Richard Mille এই চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেন এবং এমন এক ঘড়ি তৈরি করেন যা ওজনে একটি কাগজের মতো হালকা কিন্তু স্থায়িত্বে অজেয়। হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে আমরা আজ যে ঘড়িটি দেখি, তা মূলত সেই বৈপ্লবিক ইতিহাসেরই অংশ।
মডেল নিয়ে বিতর্ক: RM 27 নাকি RM 67? মিডিয়া রিপোর্টে এটিকে RM 27-04 মডেল বলা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। তবে ঘড়িটির ডিজাইন এবং ডায়াল বিশ্লেষণ করলে অনেকে একে RM 67-02 বলেও ধারণা করেন। মডেল যেটিই হোক না কেন, এটি মূলত চরম প্রতিকূল পরিবেশেও নিখুঁত পারফরম্যান্স দেওয়ার জন্য তৈরি করা একটি মাস্টারপিস।
কেবল বিলাসিতা নাকি এক অনন্য ইনভেস্টমেন্ট? Richard Mille-এর প্রতিটি ঘড়ি অত্যন্ত সীমিত সংখ্যায় তৈরি হয় বলে এর চাহিদাও থাকে আকাশচুম্বী। একজন বিশ্বমানের অ্যাথলেট হিসেবে হার্দিক পান্ডিয়া হয়তো এই ঘড়ির সেই ঐতিহাসিক স্পোর্টিং হেরিটেজ এবং অবিশ্বাস্য টেকনোলজির কারণেই এটিকে নিজের সংগ্রহে রেখেছেন।
আপনার কী মনে হয়? ২০ কোটি টাকা দিয়ে ঘড়ি কেনা কি কেবল শৌখিনতা, নাকি ইতিহাসের প্রতি এক বিশেষ সম্মান? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।