17/04/2026
ইংরেজি সাল ২০০৬ , আমি তখন ক্লাস ওয়ান এ পড়ি। সেই সময় অব্দি ২-৫ টাকা টিফিনের জন্য পর্যাপ্ত ছিলো। সকালে বাসা থেকে নাস্তা করে দিতাম দৌড়। হাফ প্যান্টের বেল্টটা টানতে টানতে গলির মাথা থেকে স্কুল ভ্যানের বেলের শব্দে আরো জোরে দৌড়।
২ টাকা পকেটে থাকলে একটা পার্লে জি , ৫ টাকা থাকলে একটা চিপস। কেউ বা এই টাকা রেখে দিয়ে ছুটির পরে স্কুল গেটের বাইরে থেকে আইসক্রিম এর ভ্যানে দিতো ঝাপ।
আজকের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০২৬। গতকাল সকালে ৫০০ টাকার একটা নোট ভাংতি করেছিলাম। সারাদিন ঢাকা শহরের উচ্চমানের জীবন যাত্রা উপভোগ করতে করতে কাজ শেষে বাসার দিকে যাচ্ছি, এফডিসির হাতিরঝিল চক্রাকার বাসের টিকেট কাটা শেষে দেখি মানিব্যাগের ভেতর ৩০ টাকা অবশিষ্ট।
এই ৩০ টাকা দিয়ে হাতিরঝিল চক্রাকারে করে দুইটা ফুল রাউন্ড মারা যায় চাইলে। নাকি এই ৩০ টাকা ইনভেস্ট করে কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলবো এই ভাবতে ভাবতে বাস এসে পুলিশ প্লাজার বাস স্ট্যান্ডে থামলো।
বাস থেকে নেমে হাটা দিলাম ৩০ টাকা কোথায় ইনভেস্ট করবো সেই ব্যবসা খুজে বের করতে। পুলিশ প্লাজার পিছনের ব্রীজ টা হেটে পাড় করতে হাতের বামে একট ওপেন স্পেসে লেক সাইডে কিছু খাবারের স্টল দেখলাম। ঘুরে ঘুরে মেনু দেখে বুঝলাম ৩০ টাকা দিয়ে ওখানে হাফ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও দিবে না কেউ আমাকে। ওখান থেকে বের হতে গিয়ে দেখি রাস্তার সাথে কিছু ছোট ভ্যান ও ছোট ছোট দোকান আছে। কোটি টাকার ব্যবসা আপাতত স্থগিত রেখে ৩০ টাকার স্ট্রীট ফুড হান্টে নেমে পরলাম।
প্রথমেই বোম্বাই ( নাগা ) মরিচ দিয়ে এক প্লেট ছোলা দিয়ে আলু মাখানো নিলাম ২০ টাকা দিয়ে।
১০ এ ৮ দেয়া যায়।
এরপরে বাকি ১০ টাকা দিয়ে লেকের পাশে একটি পিঠার দোকান থেকে একটা চিতই পিঠা আর ভর্তা নিয়ে নিলাম।
চিতই পিঠা ও ভর্তা কে ১০ এ ৭ দেয়া যায়।
খেয়ে দেয়ে খুশি মনে হেটে বাসায় চলে আসি। যেহেতু পকেটে প্রত্যেকদিন ম্যাজিকালি টাকা আসা শুরু হয়নি এখনো। তাই ভাবলাম আমার বাজেট স্ট্রীট ফুডের এপিসোড গুলোর কাজ শুরু করে ফেলি।
পকেটে ৫০-১০০ টাকা নিয়ে স্ট্রীট ফুড হান্টের জন্য কোন কোন এলাকা ভালো হবে।
কেউ আগ্রহী থাকলে আমার সাথে ১০০ টাকার স্ট্রীট ফুড হান্টে যোগ দেয়ার জন্য নিমন্ত্রন থাকলো।