11/05/2026
😭রাস্তার পাশের ফুচকা বা যেকোন খাবার আজ থেকে আর খাবোনা।😭
১) কারিনা কায়সারের লিভার বিকল হওয়া নিয়ে এক ডাক্তার ছেলের ভিডিও দেখলাম।
ছেলেটি বলছে, ❝হেপাটাইটিস A এবং E তো মানুষের পায়খানার জীবাণু। যা দূষিত খাবার বা দূষিত পানির মাধ্যমে শরীরে ঢুঁকে। কারিনা কায়সারের মতো এলিট শ্রেণীর মানুষের শরীরে সেই জীবাণু কীভাবে প্রবেশ করলো?❞
ঠিক ১ মাস আগে কারিনা কায়সারের ফুচকা স্ট্রিটফুড খাওয়ার ভিডিও জুড়ে দিয়ে ডাক্তার ছেলেটি বললো, ❝এই সমস্ত স্ট্রিটফুডের মাধ্যমেই হেপাটাইটিস A এবং E মতো প্রাণঘাতী লিভার বিকল হওয়া ভাইরাস প্রবেশ করে। এটিই হয়তো হয়েছে।❞
(২) ঢাকা শহরে প্রতিটি বাসার পানির লাইন মূলত ড্রেনের ভেতর দিয়ে লম্বা পাইপ দিয়ে আসে। আর এই ড্রেনে পুরো শহরের মানুষের পায়খানা বা মলমূত্রের জীবাণুর কিলবিল করে।
ড্রেনের জীবাণু পানির পাইপের ফুটো দিয়ে হোক বা যেকোনভাবেই...এই লাইনের পানি সরাসরি খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। পানি ফুটিয়ে বা ফিল্টারিং করে খেতে হয়।
আমি যতজন ফুচকা/ভেলপুরি বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করেছি, মামা! টকের পানিটা কী ফুটানো। এদের জবাবটা কী ছিলো শুনেন -
❝আরেহ মামা! একদম পরিষ্কার লাইনের পানি। আমার পরিবারও খায়।❞
❝মামা। ফুটন্ত পানি দিয়ে যদি টক বানাই। তাহলে বেশীক্ষণ থাকে না। নষ্ট হয়ে যায়। সেজন্য কাঁচা পানি দিয়ে টক বানাই।❞
❝১০-১৫ টা পরিবার মিলে দুই চুলা ব্যবহার করি। পানি ফুটানোর টাইম কই?❞
❝মাসে কত গ্যালোন পানি লাগবো বুঝতাছেন? কয়টা সিলিন্ডার লাগবো?❞
(৩) তো এই হচ্ছে আমাদের শখের ফুচকাওয়ালা মামাদের কাছে নিজের এবং তাঁর কাস্টমারদের জীবনের মূল্য। পানি ফুটাবে। সেটা করার সময় তাদের নেই।
আমরা জানি এদের অধিকাংশই ঢাকা শহরে বস্তিতে বাস করে। একসাথে ২০-৩০ পরিবার। এদের স্যানিটেশন, পানি ব্যবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
টয়লেটের এক বদনা ব্যবহার করে শতাধিক মানুষ। এরা পায়খানা করেও সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়া প্রয়োজন মনে করে না।
দুষিত হাত ও পানি দিয়ে ময়দা গুলিয়ে ফুকচা/ভেলপুরি বানায়। কাঁচা পানি দিয়ে বানায় টক।
প্রতিটি স্কুল কলেজের বাইরে ফুচকা-ভেলপুরি, শরবত ওয়ালাদের সরব উপস্থিতি। আর সেই খাবার আমরা, আমাদের সন্তানেরা মজা করে খাই।
বিদেশ থেকে কোন মেহমান এলেই আমরা ভ্লগারেরা ধরে নিয়ে যাই ভেলপুরি, ফুচকা টেস্ট করাতে। তাদেরকে বলি, এগুলোই বাংলাদেশের বেস্ট স্ট্রিট ফুড! প্যাথেটিক!
(৪) সদা হাস্যোজ্জল কারিনা কায়সার। এই মানুষটি আজ লাইফসাপোর্টে। মাত্র কয়েকদিনে কী থেকে কী হয়ে গেলো! দোয়া করি উনি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন।
চলুন! এই সমস্ত স্ট্রিট ফুড নিজে এবং সন্তানদেরকে খাওয়ানোর ব্যাপারে আমরা সচেতন হই। এমনিতেই ভেজাল আর রাসয়ানিক খাবারের তাণ্ডবে আমরা ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে আছি।
- অন্তর মাশঊদ