29/12/2025
এরকম স্বামী পাওয়া সত্যিই খুব ভাগ্যের ব্যাপার ❤️❤️
আপু বললেন, উনাদের বিয়ের ১২ বছর হবে,এখনো বাচ্চা হয়নি। হাজবেন্ড, শ্বাশুড়ি, ২ দেবর, ২ জা এবং তাদের বাচ্চা রা দের সাথে যৌথ পরিবারেই থাকতেন।
তো সংসারের সব কাজ উনাকেই করতে হতো, কারন বাকি বউ রা তো বাচ্চার মা, আর শ্বশুরবাড়িতে বাচ্চার মায়েদের একটা সার্টিফিকেট থাকে কাজ না করার। আপুর হাজবেন্ড অনেক সময় বাসায় এসে উনাকে কাজের বুয়ার মতো অবস্থায় দেখে বকাঝকা করতেন, বলতেন বাড়ির সব কাজ কি এই একজন এরই, এতো কাজ একজন কেই কেনো করতে হবে? তখন আপুর শ্বাশুড়ি বলতেন, তোমার বউ তো সারাদিন অবসর থাকে, বাচ্চাকাচ্চা নাই, দিন রাত কি ঘুমাবে? একদিন এভাবেও বলেছেন উনি বসে বসে কি খাবেই তোমার বউ? এগুলো আপু নিতে পারতেন না, এতো কষ্ট পেতেন যে এমন কোনো রাত নাই, দিনের এই কথাগুলো ভেবেই ঘন্টার পর ঘন্টা কেঁদে বালিশ ভিজে নি, বাচ্চা না হওয়ার কষ্ট তো আলাদা।
তো আপু বললেন, উনি নাকি সব কাজ শেষে উনার জা দের বাচ্চাদের নিয়ে থাকতেন, সময় কাটাতেন। তো উনার জা এর একটা ছেলে ৩ বছর, সে আপুর কাছেই মাঝেমধ্যে ঘুমিয়ে যেতো। একদিন সেই বাচ্চাটা উনার কাছে খেলতে খেলতেই ঘুমিয়ে যাচ্ছিলো, কিন্তু ঘুমাতে পারছিলো না, তখন আপু বললেন, তুমি চাচির কাছে ঘুমিয়ে যাও, চাচি তো আছি। তখন বাচ্চাটি উনাকে বলল, না আমি ঘুমালে তোমার চোখ ভাম্পায়ার হয়ে যাবে, আমাকে তুমি খেয়ে ফেলবে।
আপু বললেন, জানেন আপু তার মুখে কথাটা শুনে চমকে গিয়েছিলাম, তখন নিজেকে আমার সত্যিই ভাম্পায়ার মনে হয়েছিলো, বাচ্চা খেকো ভাম্পায়ার। তারপর থেকে আমার কাছে আসলে ওদের আমি ফু দিয়ে দিতাম, যাতে আমার অজান্তেই আনার নজর না লাগে ওদের ওপরে।
আমার ২ জা তাদের মধ্যে আমাকে নিয়ে কথা বলতো, আমি তাদের বাচ্চাদের ওপর নজর দেই। বাচ্চারা একটু অসুস্থ হলে, ব্যাথা পেলে, বা দুষ্টমি করলেই তারা আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলতো, বাসায়ই তো সবথেকে বড় বদনজর, বাচ্চাদের তো ক্ষতি হবেই।
আমি আমার হাজবেন্ড কে এগুলো বলতাম না, বাট আমি চাইতাম সে তাড়াতাড়ি বাসায় আসুক, কারন সে ছাড়া ওই বাড়িতে আমার ভয় লাগা শুরু করলো, সে থাকলে মনে হতো সব সয্য করে নিবো, সব কাজ করে নিবো বাট সে না থাকলেই নিজেকে অসহায় লাগতো, মনে হতো এই বুঝি আমাকে কেউ খোঁচা মারবে, কারন সে বাসায় থাকলে সবাই ই একটু বুঝেশুনে কথা বলতো, আমার হাজবেন্ড এর সংসারের ৮০% খরচ বহন করতো, এটাই ছিলো কারন।
তো গতবার ডিসেম্বরের এর ২৫ তারিখ আমাদের ম্যারেজ ডে ছিলো, আমি শাড়ী পরেছিলাম তখন আমার শ্বাশুড়ি আমাকে বলেন, তোমার মনে এতো রঙ কিভাবে আসে? শাড়ীটা আমার হাজবেন্ড দিয়েছিলো, কিন্তু উনি এগুলো বলায় আমি ভাবলাম, আসলেই তো আমার মনে এতো রঙ কেনো থাকবে? আমি শাড়ী খুলে ফেলি সাথে সাথেই।
আমার হাজবেন্ড বাসায় আসার পরে সবকিছু জেনে আমাকে হাতে ধরে তার মায়ের রুমে নিয়ে যায়, গিয়ে বলে, মা শোনো, আমার বউ এর জীবন থেকে অনেক বছর অলরেডি কেটে গেছে কেঁদে কেঁদে ই, মানুষ বাঁচেই আর কতো বছর। বাচ্চা আল্লাহ দিচ্ছেন না, তাই বলে কি তার বাকি জীবন ও এভাবে শেষ করবে? বাচ্চার কমতি তো আছেই, এখন জীবনের বাকি সবটুকু চাওয়া পাওয়া ও ছেড়ে দিবে? সে ভালো থাকা, সুখে থাকা ডিজার্ভ করে, আর আমরা এখনো বেবি ট্রাই করছি, ডাক্তার রাও বলে বাচ্চা কন্সিভ এর জন্য সবার আগে সুস্থ পরিবেশে থাকতে হয়, মেন্টালি ফিট থাকতে হয়। আর এই বাসায় এই পরিবেশে সে কখনোই সুখে থাকতে পারবে না, তাই আমি আলাদা বাসায় থাকবো, যেখানে আমার বউ এর সুখ থাকবে। তোমার ২ ছেলের সাথে এখানে তুমি থাকতে পারো চাইলে আমাদের সাথেও আমাদের "সুখের বাসায়" থাকতে পারো, আবার ২ বাসায়ই মিলিয়ে থাকতে পারো৷ তোমার ইচ্ছে।
আপু শ্বাশুড়ি তখন বলেন, তাই বলে আলাদা বাসায় থাকবি? সমাজ আত্নীয়স্বজন কি বলবে? তখন উনার হাজবেন্ড বলেন, আমার বউ এর মুখের মূল্যবান হাসি ফিরিয়ে আনতে এই সমাজ আর আত্মীয়স্বজন আমি ত্যাগ করতে পারবো।
আপু বললেন, পরশু আমাদের ১২ তম বিবাহবার্ষিকী এবং নতুন সংসার এর ৪ মাস হবে, আপনার কাছ থেকে এই শাড়ীটা নিয়ে হাজবেন্ড কে সারপ্রাইজ দিবো।
আমি বললাম, আপু আপনার হাজবেন্ড আপনার জন্য যেটা করেছেন সেটা যদি আমাদের দেশের বাকি হাজবেন্ড রাও করতে পারতেন তাহলে এই দুনিয়াতে বাচ্চা না হওয়ার যে একটা কষ্ট, সেই কষ্টে একটা মেয়ে শ্বশুর বাড়িতে প্রতিদিন একবার করে মরতো না, এরকম সিচুয়েশনে বেশির ভাগ মেয়েরা শ্বশুর বাড়িতে মরার মতো হয়ে বেঁচে থাকে, আবর্জনার মতো।
আপু বললেন, কিন্তু আমার হাজবেন্ড আমাকে সেখান থেকে বের করে "সুখের বাসায়" নিয়ে এসেছে, এখনো আমি কাঁদি, তবে সেটা শুধুই জায়নামাজে 😊