13/01/2026
আবিদা,
তোমার সাথে আমার গল্পটা হঠাৎ শুরু হলেও, খুব গভীরভাবে জড়িয়ে গেছো আমার জীবনের সাথে।
প্রথম পরিচয় ডিগ্রি কলেজে। আমি তখন ডিগ্রিতে পড়তাম না, বান্ধবীদের সাথে গিয়েছিলাম। সেদিনই অনার্সে অ্যাপ্লাই করার কথা—তুমিও করেছিলে। প্রথম দেখাতেই তোমার ব্যবহার আর সহযোগিতা আমাকে ভীষণভাবে ছুঁয়ে গিয়েছিল। সেদিন তুমি পাশে না থাকলে আমি হয়তো অ্যাপ্লাইটাই করতে পারতাম না। সেখান থেকেই আমাদের বন্ধুত্ব।
এরপর অনার্সে আমরা একই বিষয়ে—সমাজবিজ্ঞানে—চান্স পাই। একসাথে ক্লাস, একসাথে গল্প, হাসি—দিনগুলো খুব সুন্দর কেটেছে।
একদিন হঠাৎ আমার বিয়ের কথা চলতে শুরু করল, ডেট ফিক্সড হলো। খবরটা শুনেই তুমি নিজেকে সামলাতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলি। ডিপার্টমেন্টের সবাই তাকিয়ে ছিল, শান্তনা দিচ্ছিল। আর আমরা দুজন অঝোরে কাঁদছিলাম—কথা না বলেও কত অনুভূতি যে ছিল!
বিয়ের পর আমি যখন ছোট একটা বিজনেস শুরু করার কথা ভাবছিলাম, তখনও তুমি পাশে ছিলে। কী বানাব, কীভাবে করব—সব বিষয়ে তোমার পরামর্শ ছিল। এমনকি আমার প্রথম বড় অর্ডারটাও তুমিই দিয়েছিলে। এটা আমি কোনোদিন ভুলব না।
এই শনিবার তোমার বিয়ের রিসেপসন । কত ইচ্ছা ছিল তোমাকে নিজের হাতে বানানো গিফট দেওয়ার—বড়মালা, নিকানামা, নিকাপেন, আয়না। সব না পারলেও যতটুকু পেরেছি, নিজের হাতে বানিয়ে, সাজিয়ে, দিয়েছি।
শুক্রবার সারাদিনের দৌড়ঝাঁপ, কাজের ক্লান্তি, রাতের খোঁজাখুঁজি—সব মিলিয়ে শরীর-মন দুইটাই ভীষণ ক্লান্ত ছিল। তার ওপর আনাসের বাবা অসুস্থ—ডাক্তার, ওষুধ, দুর্বলতা সব ছিল। তবু একটা কথাই মাথায় ছিল,
“আবিদার বিয়ে, আমাদের যেতেই হবে।”
অনেক কষ্ট আর অসুস্থতা নিয়েই আমরা দুজনেই বিয়েতে এটেন্ড করেছিলাম—শুধু তোমার খুশির জন্য।
কিন্তু সেখানে গিয়ে যেই খবরটা শুনলাম…
শুনে আমরা একদম ভেঙে পড়েছি।
তুমি প্রেগন্যান্ট ছিলে, বেবির কিডনির জটিলতা, হাসপাতালে ভর্তি। মাত্র দুদিনের রিলিজ নিয়ে বিয়েটা করা, শেষে আবার অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া…
এই কষ্ট ভাষায় বোঝানো যায় না।
আবিদা, তুমি অনেক শক্ত।
আল্লাহ যেন তোমাকে, তোমার স্বামীকে আর তোমার পরিবারকে এই কঠিন সময়টা পার করার শক্তি দেন—এই দোয়াই করি।
সবাই দোয়ায় রাখবেন।
আল্লাহ ভরসা 🤍