15/04/2026
আজ ১লা বৈশাখ, ১৪৩৩
সেই উপলক্ষে সকলকে চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পূজা কমিটির পক্ষ থেকে নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
প্রায় চারশত বছরের পুরাতন চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বর শহরের জগদ্ধাত্রী পূজা উৎসব আজ বিশ্ববন্দিত।
মা জগদ্ধাত্রী - র পূজার দিনগুলিতে ভারতবর্ষ তথা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় পঁচিশ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। বর্তমানে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বের কয়েক কোটি মানুষ চন্দননগরের অনন্যসাধারণ আলোকসজ্জা, নয়নাভিরাম মণ্ডপসজ্জা, অপরূপ সোলার সাজে সজ্জিত মাতৃপ্রতিমা দর্শন করেন।
চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বরের সকল ধর্ম - বর্ণ এর মানুষ অর্থনৈতিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে কাঁধে - কাঁধ মিলিয়ে প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে জগদ্ধাত্রী পূজা উৎসব আয়োজনে সামিল হন।
অতীতে যে কোন সাধারণ অথবা স্থানীয় নির্বাচনের সময়ে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পূজাকে আলোচনার বিষয়বস্তু করে তোলা হয়নি। দুর্ভাগ্যের বিষয়, এই বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জগদ্ধাত্রী পুজোকে আলোচনার বিষয়বস্তু করে তুলেছেন।
*চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পূজা কমিটির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন পূজা কমিটিদের কাছে পত্র দিচ্ছেন বলেও আমরা সূত্র মারফত জানতে পারছি।*
এটিকে বিষয়বস্তু করে তুললে চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বরের জগদ্ধাত্রী পূজার ভাবমূর্তি সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে ও সমগ্র বিশ্বে বিরূপ ধারণা তৈরি হবে এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি হওয়ার ফলে পূজার আয়োজন সাংঘাতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
সুতরাং সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আবেদন বিষয়টিকে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে বৃহত্তর কোন ক্ষতিসাধন দয়া করে করবেন না।
ঠিক যেমন একটা পাড়ার জগদ্ধাত্রী পূজা কমিটিতে সব দলের মানুষ থাকেন, অনুরূপভাবে চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পূজা কমিটিতে সব রাজনৈতিক মতে বিশ্বাসী মানুষ আছেন। জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে রাজনীতি করে চন্দননগরের বিশ্ববন্দিত পুজোকে রঙ চাপিয়ে কলুষিত করা অনুচিত হচ্ছে ।
চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পূজা কমিটি পশ্চিমবঙ্গ তথা সমগ্র ভারতবর্ষে একটি অনন্য ঐতিহ্যের নিদর্শন ও সমগ্র বিশ্বে সমাদৃত এবং একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ও বাংলার ধর্মনিরপেক্ষতা সহ সকল সংস্কৃতির ধারক ও বাহক, যা গত প্রায় ৭০ বছর ধরে নিষ্ঠা ও গৌরবের সঙ্গে তার ঐতিহ্যকে বয়ে নিয়ে চলেছে।
*তাই কোনো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সংগঠনের নাম জড়িয়ে তাকে কলুষিত না করার জন্য সকলের কাছে আমাদের আন্তরিক আবেদন রইল।* যাঁরা অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের কাজ করছেন, তাঁদের কাছে বিনীত অনুরোধ—অনুগ্রহ করে এই ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকুন।
কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিটি সদস্যের নিরলস প্রচেষ্টা, চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বরের সকল জগদ্ধাত্রী পূজা কমিটির আন্তরিক অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের অগাধ ভালোবাসাই আমাদের এই পথচলার শক্তি। আপনাদের এই ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই আমরা ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।
আপনাদের সকলের সহযোগিতা, শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদই আমাদের একমাত্র ভরসা।
বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা সহ-
শ্যামল কুমার ঘোষ
সভাপতি
চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পূজা কমিটি